আলেমদের গ্রেফতার ও রিমান্ড বন্ধ করে অবিলম্বে মুক্তি দিন

প্রবাস ডেস্ক : পবিত্র রমজান মাসে বাংলাদেশে ব্যাপক ভাবে আলেম উলামাদের গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদের নামে রিমান্ড, হেনস্তা, অপমাণ ও নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বৃটেনের শীর্ষস্থানীয় উলামাগণ।

বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সর্বদলীয় উলামা সংগঠন বাংলাদেশী মুসলিমস ইউকের সর্বোচ্চ পরিষদ মজলিসে কিয়াদাতের শীর্ষ আলেমগণ বলেন, রমজান মাস হচ্ছে রহমত মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এ মাস ইবাদাত ও আল্লাহর সন্তুষ্ঠি অর্জনে ব্যাপৃত থাকার মাস। কিন্তু সরকার নিজের সীমাহীন ব্যর্থতা ঢাকার জন্যে দেশব্যাপী এক অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্ঠি করে চলেছে।

তারা প্রশ্ন করেন, সরকার কাকে সন্তুষ্ঠ করার জন্য সারাদেশে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করে দেশের বরেণ্য উলামায়ে কেরামদের গ্রেফতার করছে।মসজিদ মাদ্রাসা সহমাদ্রাসা হিফজখানা ও দ্বীনি প্রতিষ্ঠান সমূহ বন্ধ ঘোষনা করেছে। এমনকি ইবাদাতের এই মাসে মসজিদে জামাতে নামাজে বিধি নিষেধ আরোপ করেছে। একটি মুসলিম প্রধান দেশে সরকারের এহেন কর্মকান্ডে আমরা রীতিমতো হতবাক হয়েছি।

তারা আরো বলেন, ধর্ম কর্ম, কথা বলা ও মত প্রকাশের সকল দোয়ার বন্ধ করে সরকার সুষ্পষ্ট ভাবে সংবিধান লংঘন করে চলেছে নন। আমরা সরকারকে স্মরন করিয়ে দেয়া জরুরী মনে করছি, নিজেকে ইসলামের প্রতিপক্ষ বানাবেন না। ক্ষমতা ও প্রতিপত্তিকে সীমাহীন মনে করবেন না। আল্লাহর পাকড়াওকে ভয় করুন।

বৃটেনের শীর্ষ উলামায়ে কেরামগণ তাঁদের বিবৃতিতে আরো বলেন, হেফাজত আমীর আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর লকডাউন প্রত্যাহারের এবং আলেম উলামাদের গণ গ্রেফতারে উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকারের কাছে তালিকা চেয়ে সকলকে নিয়ে তিনি স্বেচ্ছা কারাবরনের যে আহবান জানিয়েছেন তা দেশের মানুষের অসহায়ত্ব এবং সরকারের সীমাহীন জুলুম ও স্বৈরবাদিতার মুখোশ উন্মোচন করে দিয়েছে। আমরাও বলি, গরীব ও খেটে খাওয়া মানুষদের পিটিয়ে তাদের রোজগারের পথ বন্ধ করে, মাদরাসা সমূহ বন্ধ করে মসজিদে ইবাদতের উপর বিধিনিষেধ আরোপ ও উলামায়ে কেরামকে গণ গ্রেফতার করে সরকার সীমাহীন বাড়া বাড়ি করছে। এমনকি বাঁশখালীর কয়লা শ্রমিকদের সময়মতো পারিশ্রমিক প্রদানের দাবী ও রমজানে ইফতার সময়ে শ্রমিকদের কর্মবিরতির দাবীকে উপেক্ষা করে তাদের উপর গুলি চালিয়ে পাঁচ জনকে হত্যা করে সরকার মানবতা ও ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এর দায় সরকার কোন ভাবেই এড়াতে পারবেনা।

আমরা অবিলম্বে গণগ্রেফতার বন্ধ, গ্রেফতারকৃত উলামায়ে কেরামের মুক্তির দাবী জানাই। আমরা আরো স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে হত্যা, মামলা, গ্রেফতার ও নির্যাতন করে ক্ষমতাকে চির স্থায়ী করা যাবেনা। এটা এক সময় সরকারের প্রতিই বুমেরাং হয়ে ফিরে আসবে।

আমরা দ্ব্যার্থহীন ভাষায় সরকারকে জানিয়ে দিতে চাই, মনে রাখবেন,আলেম উলামা ও ইসলাম বিশ্বাসী জনগণ জীবন দিতে পারে কিন্তু ইসলামের উপর এহেন আঘাত ও হস্তক্ষেপ কোন ভাবেই বরদাশত করবেনা। ইতিহাস থেকে পাঠ গ্রহন করুন। নিবর্তন নির্যাতনের পথ পরিহার করুন। অবিলম্বে গ্রেফতারকৃত উলামায়ে কেরামকে মুক্তি দিন।

বিবৃতিদাতা উলামায়ে কেরামের মধ্যে রয়েছেন হাফেজ মাওলানা আবু সাঈদ, হাফেজ মাওলানা শামসুল হক, মাওলানা এ কে এম সিরাজুল ইসলাম, মাওলানা শায়খ জমশেদ আলী, মুফতি শাহ সদরুদ্দিন, শায়খ আব্দুল কাইয়ূম, অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল কাদির সালেহ, মাওলানা এ কে মওদুদ হাসান, মাওলানা শোয়াইব আহমদ, মাওলানা সাদিকুর রহমান, মাওলানা ইমদাদুর রহমান মাদানী, মাওলানা আবুল হোসাইন খান, মাওলানা শাহ মিজানুল হক, মাওলানা সৈয়দ তামিম আহমদ, মাওলানা রেজাউল করীম, মাওলানা আবুল হাসনাত চৌধুরী প্রমুখ ।