ইতিহাস নির্ভর আত্মজীবনী ‘অতীত ও বর্তমানের অন্তহীন সংলাপ’

হাবিবুর রহমান বাবলা ||

শ্রদ্ধেয় বড়ভাই (ফুফাতো)  ইফতেখার হোসেন আহমেদের ইতিহাস নির্ভর আত্মজীবনী ‘অতীত ও বর্তমানের অন্তহীন সংলাপ’ এইমাত্র পড়ে শেষ করলাম। বইটি মুদ্রিত হয়েছে কালানুক্রমে লিখিত ডায়রির পাতা থেকে অত্যন্ত নির্মোহ ভাবে, পুস্তকটি অনুমান নির্ভর নয়। তাই ২৯৬ পাতার তথ্যমূলক পুস্তকের রিভিউ লেখার যোগ্যতা আর ধৃষ্টতা কোনটাই আমার নেই। এখানে কেবলমাত্র আমার কিছু ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশ করলাম।

১. কানাইদাশীর তহশিলদার (সরপঞ্চ) বাড়ি, মধ্যভাগের খাঁ বাড়ি এবং গোলের হাওরের বড় বাড়ির মধ্যে একটা আত্বীয়তার সম্পর্ক (বহুবিদ) সব সময় বিরাজমান ছিল। বিপদে আপদে এক গোত্র অন্য গোত্রকে সাহায্য সহযোগিতার জন্য এগিয়ে এসেছে। লেখক তাঁর আত্বীয়তার মেল বন্ধনকে এই পুস্তকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন। সকল আত্বীয় স্বজনদের পরিচয় মুদ্রিত করে সবাইকে ঋণী করেছেন।

আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আমার বড় চাচা জনাব আলতাফুর রহমান (টেনাই) এবং তাঁর পরিবারকে স্মরণ করার জন্য। আমার বড়চাচা অত্যন্ত আত্বীয়বান্ধব এবং বিদ্যানুরাগী ছিলেন। শান্তিবাগ এবং নারায়নগঞ্জের বাসায় গ্রাম থেকে মেট্রিক পাশ করে আসা আমার কয়েকজন চাচা, মামাকে কলেজে পড়িয়ে চাকরি জীবনে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। আমার বড় চাচী বেগম শামসুন নাহার আলতাফ ছিলেন সময়ের চেয়ে অগ্রসর মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন নারী। উনাকে কোনদিন আত্বীয় স্বজনদের সেবায় বিরক্ত বোধ করতে দেখি নাই। আমি নিজেও শৈশব থেকেই বড় চাচার বাসায় থেকে শিক্ষাজীবন শেষ করে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করেছি।

২. ছয় দফা ছিল বাঙালি জাতির আত্মনিয়ন্ত্রন অধিকারের দাবী। ছয় দফা বাংলার জনগণের জন্য ছিল তাদের মুক্তির সনদ বা ম্যাগনাকার্টা। লেখক এই পর্বে সাবলীলভাবে বর্ণনা করেছেন মুক্তি সংগ্রামের প্রেক্ষাপট। ‘৬৯ এর গণ আন্দোলনের সংক্ষিপ্ত সার। ক্ষুরধার লেখনিতে ফুটে উঠেছে ২৫ মার্চ, ১৯৭১ এর কাল রাত্রির ঘটনা ও তৎপরবর্তী কালের কার্যপ্রবাহ।

৩. মুক্তিযুদ্ধে কমলগঞ্জ, মৌলভীবাজার : স্বাধীনতার ৫০ বছরে হয়তো অনেকেই ভুলে গেছেন মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে কমলগঞ্জের কার কি অবস্থান কিংবা অবদান ছিল। লেখক চমৎকার ভাবে কমলগঞ্জের স্বাধীনতাকামী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পরিচয় ও মুক্তিযুদ্ধে তাদের অবদান লিপিবদ্ধ করেছেন।

৪. লেখক কর্মসূত্রে বিভিন্ন সময়ে ইংল্যান্ড, সার্বিয়া, ক্রোয়েশিয়া, ইতালি ভ্রমন করেছেন। পরিব্রাজক সময়ে সেই সব দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য সুন্দর বিবরণ লিপিবদ্ধ করেছেন।

৫। বন্ধুত্ব, ব্যক্তিগত যোগাযোগ, সম্পর্ক ইত্যাদি।

অত্যন্ত ধীমান লেখক তাঁর বাল্যকাল থেকে অদ্যাবধি তাঁর বন্ধুবান্ধব, চাকুরিকালীন ব্যাচমেট, সিনিয়র জুনিয়র রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যাদের সংস্পর্শে এসেছেন তাদের সবাইকে ধারণ করে মলাটবদ্ধ করেছেন। আনন্দের সাথে বলতে হয় এসব মহৎ ব্যক্তি তালিকায় আমার বেশ কিছু প্রিয় মানুষ আছেন যাদের আমি শ্রদ্ধা করি ভালবাসি। লেখকের একান্ত উদ্যোগ ও ব্যবস্থাপনায় ১৯৮৯ সালে কমলগঞ্জবাসীদের সামাজিক সংগঠন ‘কমলগঞ্জ উপজেলা সমিতি -ঢাকা ‘ গঠিত হয়। আমার বিশ্বাস বইটি পড়ে বিদগ্ধজনেরা বিভিন্ন অজানা তথ্য জেনে নিজেদের তথ্যভান্ডার সমৃদ্ধ করবেন। ধন্যবাদ।