উলুবনে মুক্তো ছড়ানো নিস্ফল

খসরুল আলম ||

আমার এলাকার একজন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিপি নুরুল হক নূরের একটি ছবি সম্বলিত একটি পোস্ট করেছেন। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ভিপি নূর চেয়ারে বসে গভীর মনযোগের সহিত বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী গ্রন্থটি পড়ছেন। তো সেই পোস্টে প্রথমেই একজন কমেন্ট করে নুরুল হক নূরকে গরু সম্বোধন করেছেন। কমেন্টটি আমার বিবেকে আঘাত করলো।

ভিপি নূরকে গরু সম্বোধন করা ভাইটির প্রোফাইল চেক করে দেখলাম তিনি পরীক্ষিত মুজিব সৈনিক! আমি উনার কমেন্টে জবাব দিলাম, একজন মানুষকে গরু বলা কি আপনার ঠিক হলো? ভিপি নূর আপনার রাজনৈতিক অথবা চিন্তার প্রতিপক্ষ হতেই পারে, তাই বলে গরু বলা সমীচীন কিনা! উত্তরে জ্ঞানী ভাইটি উত্তর দিলেন, নুরুল হক নূর আমার নেতা হতে পারেন কিন্তু তার নিকট নুরুল হক নূর একজন গরু বৈ আর কিছু নয়।

বুঝতে পারলাম, এই লোকের সাথে তর্কে আসা উচিত হয় নি। তাই চুপচাপ থাকার সিদ্ধান্ত নিলাম৷ কিন্তু লোকটি আমাকে খোচাচ্ছে। উত্তর দিচ্ছি না কেনো ! ফেরেশতাসূলভ ভাইটি আমাকে বয়ান দিচ্ছে, ভিপি নূরের মতো লুচ্চা, বদমাশ এবং ধর্ষকের পক্ষালম্বন যেহেতু আমি করেছি তাই আমি ও কি ধর্ষক এই টাইপের কিছু! জবাবে বললাম, ইতিহাস কতটুকু জানেন বলতে পারছি না! জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আপনার আদর্শের নেতা জসিম উদ্দিন মানিকের ইতিহাস জেনে নিয়েন। ধর্ষণের সেঞ্চুরি করে মিষ্টি আপ্যায়ন করা মানিক কোন আদর্শের নেতা ছিলো!

আসলে, মুর্খ লোকের সাথে তর্কে যাওয়া উচিত না। যদি তুমি তর্কে হেরে যাও তাহলে সে তোমাকে প্রচণ্ড রকমের ছোটজ্ঞান করবে। আর যদি তুমি তর্কে জিতে যাও তাহলে তোমার বিরুদ্ধে মারাত্মক চক্রান্তে মেতে উঠবে। কারণ, মূর্খরা অতি সহজে পরাজয় মেনে নিতে পারে না!

লেখক : সাবেক শিক্ষার্থী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।