গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলা বিএনপির মুখে শোভা পায় না : ওবায়দুল কাদের

ডেইলি সিগনেচার : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলা বিএনপির মুখে শোভা পায় না, ক্ষমতায় থাকতে তারা ১৫ ফেব্রুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনের কলংকিত অধ্যায়ও এদেশে সৃষ্টি করেছে। বিএনপি নেতারা পূর্ণিমার আলো ঝলঝল রাতেও অমাবশ্যার অন্ধকার দেখতে পায়। সব কিছুতে সরকারের দোষ ত্রুটি খুঁজে বের করা বিএনপির মজ্জাগত স্বভাবে পরিণত হয়েছে। আজ (৪ মে) মঙ্গলবার বিকেলে তাঁর সরকারি বাসভবনে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থাকে দলীয়করণ করার রেকর্ডে বিএনপি চ্যাম্পিয়ন। তারা এক কোটি সোয়া লাখ ভূয়া ভোটার দিয়ে আজিজ মার্কা প্রহসনের নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিয়েছিলো, যার কারণে দেশে ১/১১-এর মতো অবস্থা তৈরি হয়েছিল। মাগুরা ও ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনের সেই জালিয়াতির কথা দেশের মানুষ এখনো ভুলে যায়নি। বিএনপির আমলে সকাল ১০ টার মধ্যেই ভোট প্রদান শেষ করে দেওয়া হয়েছিলো, তখন চট্টগ্রামের একটি কেন্দ্রে ভোট গণনার আগেই চূড়ান্ত ফলাফল রেডিও, টিভিতে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

তিনি আরো বলেন, গণমাধ্যমের ওপর সরকারের যদি নিয়ন্ত্রণই থাকবে তাহলে প্রতিদিন তারা সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার আর মিথ্যাচার করে কেমন করে? আন্দোলন ও নির্বাচনে ব্যর্থ বিএনপি গণমাধ্যম স্বাধীন আছে বলেই এখনও টিকে আছে। সরকারের কোন উদ্যোগ বিএনপির চোখে পড়ে না। এই সংকটকালে জনগণের জীবন ও জীবিকার মাঝে ভারসাম্য তৈরিতে সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা না করে তারা তোতা পাখির মতো শেখানো বুলি অবিরাম আওড়িয়ে যাচ্ছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, করোনা মহামারিতে শেখ হাসিনা সরকার দিনরাত করোনাপীড়িত মানুষের চিকিৎসা, সংক্রমণ রোধ এবং অসহায় মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান অব্যাহত রেখে সরকার কর্মহীনদের সুরক্ষায় আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। অথচ বিএনপি শুধু তাদের কথাই বলে যাচ্ছে। অসহায় কর্মহীন, খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সাড়ে ছত্রিশ লাখ পরিবারকে নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগ বা দলীয় নেতাকর্মীদের আত্মীয় স্বজন দেখে নয়, বরং নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া পরিবারের তালিকা করে এবং যাচাই বাছাই এর মাধ্যমে এসব সাহায্য দেওয়া হচ্ছে। মুখ দেখে দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা এবার যেন কোনভাবেই বেহাতে না যায় সে ব্যাপারেও ইতিমধ্যে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা বিতরণে কেউ কোন অপকর্ম ও অনিয়ম করলে তাকে কঠোর শাস্তি পেতে হবে।