গ্রেফতার ঝুঁকিতে হেফাজত : করণীয় কি?

সৈয়দ শামছুল হুদা ||

বিগত কয়েকদিন যাবত হেফাজত নেতৃবৃন্দের ওপর দিয়ে ঝড় বয়ে যাচ্ছে। খুব দেখে-শুনে দায়িত্বশীলদেরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। ৮বছর আগের হেফাজতকে নিয়ে করা মামলায় সংগঠনের জনপ্রিয় নেতা, মেধাবী সংগঠক, কেন্দ্রীয় সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদীকে ইতিমধ্যেই শুধু গ্রেফতারই নয়, ৭দিনের রিমান্ডেও নিয়েছে। এছাড়াও ঢাকা, বি.বাড়িয়া, হাটহাজারীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় যারা বিভিন্ন সময়ে হেফাজতের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন তাদের একের পর গ্রেফতার করা হচ্ছে। একদিকে কোভিড-১৯নিয়ে লকডাউন চলছে। মানুষ চরম পর্যায়ের অস্থিরতার মধ্যে। এছাড়া দুদিন পর থেকে পবিত্র রমযান মাস শুরু হচ্ছে। এমন সময়ে ব্যাপক আকারে সরকারের এই পদক্ষেপ সত্যিই দুঃখজনক। একটি অমানবিক কাজ। হেফাজত হয়তো সাময়িক ধাক্কা খাবে। অগোছালো সংগঠন নতুন করে গুছিয়ে করার চিন্তা করবে। ধাক্কা খেলেই দেশের আলেম সমাজ রাজনীতিটা বুঝবে। সরকারকে বুঝবে। ক্ষমতা, করণীয় এবং জাতীয় দায়িত্বের জায়গা থেকে নিজেদের অবস্থান বুঝতে পারবে।

দেশের সকল তরুন আলেমদেরকে অনুরোধ করবো, সামনে বড় ধরণের ঝড় আসতে পারে এটা মাথায় রেখেই সব কাজ করতে হবে। গণমানুষের সাথে মিশে কীভাবে চলতে হয় তা শিখতে হবে। ইসলামের অতীত ইতিহাসটা খুব ভালো করে ফাঁকে ফাঁকে চর্চা করতে হবে। দেশের অন্যান্য সকল সংগঠনের ভাইদের সাথে কীভাবে মিশে কাজ করতে হয় তা জানতে হবে। আবেগ-তাড়িত হয়ে কিছু করা যাবে না। ধর্মীয় জ্ঞানের পাশাপাশি রাজনৈতিক শিল্প ভালোভাবে আয়ত্ব করতে হবে। রাজনীতির ক্ষেত্রে আলেমগণ সামনে থেকে নয়, পেছন থেকে নির্দেশনা দেওয়াটাই নিরাপদ। আলেমগণ সামাজিক শক্তির নেপথ্য শক্তি হিসেবে কাজ করবে। রাজনীতিটা যে সব আলেম ভালো করে বুঝেন, তারা ময়দানে সামনে থেকে কাজ করবেন। আর যারা রাজনীতিটা ভালো করে বুঝেন না, তারা রাজনীতির কোন প্রোগ্রামে নিজ কাঁধে দায়িত্ব নিবেন না।

নানা ধরণের আতঙ্ক ছড়ানো হবে। ভীতি প্রদর্শন করা হবে। সবকিছু ধৈর্যের সাথে মোকাবেলা করতে হবে। পরস্পরে দোষারূপ করার সংস্কৃতি পরিহার করতে হবে। মনে রাখতে হবে, শত্রু অনেক শক্তিশালী। আর আমরা শতধা বিভক্ত। একে অপরের দোষ ধরতে ধরতেই আমাদের ভাইয়েরা গ্রেফতার হয়ে যাচ্ছে। সব এলাকায় সবাই মিলে এসব বিষয় ঢিল করতে হবে। আর সকল প্রকার হঠকারি সিদ্ধান্ত থেকে দূরে থাকতে হবে। অনেক ভাই, সরকারের বিরুদ্ধে হঠকারি সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে উদ্বুদ্ধ করবে। মনে রাখবেন, রাষ্ট্র আমাদের সকলের। রাষ্ট্রের দায়িত্বে যারা আছে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের যতেই ক্ষোভ থাক, বেলা শেষে রাস্ট্রীয় আইনের বাইরে যাওয়ার আমাদের আপাতত কোন সুযোগ নেই। প্রয়োজনে প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে এসব সমস্যা সমাধান করতে হবে।

আমাদের কিছু ভাই যতই তাগুত, গণতন্ত্র হারাম, কুফুরিতন্ত্র, মডারেটধর্ম ইত্যাদি বলে রাজনৈতিক আলেমদের অবজ্ঞা করুক না কেন, বাংলােদেশে তারা কেহই এই দাবী করতে পারবে না যে, তারা সরকারের সংবিধান মানে না। সরকারের নির্দেশ মানে না। বিশাল ভারতের পেটের ভেতর থাকা ছোট্ট একটি দেশ এই বাংলাদেশ। এখানে কোন প্রকার হঠকারি সিদ্ধান্ত নিলে বড় ধরণের ক্ষতি হবে বাংলাদেশের মুসলমানদের। সরকার গ্রেফতার করে আলেম সমাজের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে দিতে চেষ্টা করছে। সরকার থানায় থানায় ভারি অস্ত্রের প্রদর্শন করছে। এগুলো যতই করুক, মনে রাখবেন, গণ প্রতিরোধের কোন বিকল্প নেই। সবাই একসাথে থাকার কোন বিকল্প নেই। ছিদ্রান্বেষণের দুর্ভাগ্যজনক সংস্কৃতি আমাদেরকে প্রতিনিয়ত দুর্বল করছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাই ভাই ভাই হয়ে মিলে-মিশে থাকার কোন বিকল্প নেই। আর গণপ্রতিরোধেরও কোন বিকল্প নাই। আড়ালে-আবডালে কোন কিছু করার কথা যারা বলে, তারা সমাজ ও রাষ্ট্রের ক্ষতি ছাড়া কিছুই উপহার দিতে পারবে না।

আল্লাহ তায়ালা অত্যাচারি এই সরকারকে সকল প্রকার জুলুম থেকে বিরত রাখুন। আর আমাদেরকে সত্যটা বুঝার তৌফিক দান করুন। আগামী দিনে দ্বীন ও ঈমান বিরোধী সকল কাজে হেফাজত সামনের কাতারে থেকে যোগ্যতার সাথে মোকাবেলা করবে সেই আশাকরি । আর সকল প্রকার হঠকারি সিদ্ধান্ত ও কর্মপদ্ধতি থেকে দূরে থাকার তৌফিক দান করুন।