চার মাসে ৯১ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার : আসক

ডেইলি সিগনেচার : ‘তথ্য জনগণের পণ্য’ এ প্রতিপাদ্য নিয়ে সোমবার (৩ মে) বিশ্বব্যাপী মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালিত হচ্ছে। এ বছর দিবসটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য বহন করছে। করোনার কারণে গণমাধ্যম নানামুখী পেশাগত ও আর্থিক ঝুঁকিতে রয়েছে। একইসঙ্গে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ব্যাপক অপপ্রয়োগ সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তৈরি করেছে নানা প্রতিবন্ধকতা। প্রকৃতপক্ষে, এ আইন মুক্ত ও স্বাধীন সাংবাদিকতার অন্যতম প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংস্কারের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র-আসক। সোমবার (৩ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই মন্তব্য করে সংগঠনটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,  প্রচুর অনলাইন ও অফলাইন সংবাদপত্র থাকলেও ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক প্রভাব, জেন্ডার অসংবেদশীলতাসহ নানা কারণে দেশের গণমাধ্যমগুলো সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক সমালোচনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘বিশ্ব সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতা সূচক ২০২০’-এ রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারসের ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে বাংলাদেশের স্থান ১৫২তম। এবারের সূচকে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সবার নিচে। সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে— ২০২০ সালে করোনাভাইরাস সংকট এবং লকডাউন চলাকালে সাংবাদিকদের ওপর পুলিশ ও প্রভাবশালীদের সহিংসতা বাড়ার পরিমাণ উদ্বেগজনক। আরএসএফ বলছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কারণে বাংলাদেশে সাংবাদিকদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অভূত পর্যায়ে পৌঁছেছে। সম্পাদকরা সঙ্গত কারণেই জেল বা গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঝুঁকি এড়াতে চান।

জাতীয় দৈনিক ও আসকের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, গত চার মাসে (জানুয়ারি-এপ্রিল ২০২১) ৯১ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। অপরদিকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ৬৫টি মামলায় ১২২ জনকে আসামি করা হয়েছে এবং ৪৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কেবল এপ্রিল মাসেই ৪৬টি মামলায় ৭৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে অনেক সাংবাদিক রয়েছেন। প্রায়ই দেখা যায়, ক্ষমতাসীন দলের কর্মী কিংবা সমর্থকরা এ আইনে মামলা করছেন। আবার যাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে, তাদেরকে দ্রুততার সঙ্গে গ্রেফতারও করা হচ্ছে। অধিকাংশ সময় তাদের জামিন হচ্ছে না। ফলে তাদের জেল খাটতে হচ্ছে। এ আইনের আওতায় গ্রেফতার হয়ে জেলে লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যু ও কার্টুনিস্ট কিশোরকে নির্যাতন করার অভিযোগ সাংবাদিকদের মধ্যকার বিদ্যমান ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা আরও তীব্রতর করেছে, যা তাদের পেশাগত দায়িত্বপালনে মারাত্বক প্রভাব ফেলছে।

দুর্যোগ বা অতিমারির সময় সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছানোর মাধ্যমে যেকোনও গুজব, ভুল তথ্য কিংবা অপপ্রচার রোধ করা সম্ভব হলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে তথ্যের অভিগম্যতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতে আইন ও সালিশ কেন্দ্র-আসক অবিলম্বে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কার্যকর সংশোধন আনার দাবি জানাচ্ছে। একইসঙ্গে যতই প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ সংশ্লিষ্ট থাকুক না কেন, সাংবাদিকদের হয়রানির প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছে। জনগণের অধিকার রক্ষার লক্ষ্যে একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহি, ন্যায় ও মানবাধিকারভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় মুক্ত গণমাধ্যম অপরিহার্য এবং সরকারের দায়িত্ব এমন পরিবেশ ও কাঠামো তৈরি করা, যেখানে গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে তার পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারে।