প্রধানমন্ত্রী সমীপে আঞ্জুমান সম্পাদকের খোলা চিঠি

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী!
আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। আশাকরি সুস্থ আছেন। আপনি ভালো থাকুন আমরা সেই দুয়া করছি। আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আপনার সুদৃষ্টি কামনা করছি। আপনার দৃষ্টিগোচর হলে আশাকরি আমাদের হৃদয়ের আকুতিকে মূল্যায়ন করবেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী!
আপনি জেনে খুশি হবেন, পবিত্র কুরআন নাযিলের মাস মাহে রমজানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আঞ্জুমানে তা’লীমুল কুরআন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন কুরআন শিক্ষা বোর্ড মাসব্যাপী কুরআন প্রশিক্ষণ পরিচালনা করে থাকে। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীকে প্রতিষ্ঠান ছুটিকালীন সময়ে ইসলামের বুনিয়াদি শিক্ষা ও কুরআনের সহীহ তা’লীমের পাশাপাশি আদর্শ নাগরিক গড়ে তুলতে এ প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মহামারি করোনার কারণে বিগত বছর এ কুরআন প্রশিক্ষণ বন্ধ ছিলো। লক্ষ লক্ষ মুসলিম কুরআন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত ছিলো। যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী!
আপনার মরহুম পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইসলামের সুমহান খেদমত করে গেছেন। আপনি তাঁর সুযোগ্য কন্যা। আপনিও ইসলামী শিক্ষা ও আদর্শের প্রতি যথেষ্ট অনুরাগী। মুসলিম অধ্যুষিত দেশের একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনার নাগরিকদেরকে কুরআন শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ দেয়াও আপনার জিম্মাদারি। আপনার কার্যালয় হতে প্রজ্ঞাপনে (ণ) “সভা, সেমিনার, প্রশিক্ষণ, কর্মশালা যথাসম্ভব অনলাইনে আয়োজনের ব্যবস্থা করতে হবে” মর্মে উল্লেখ রয়েছে। আমাদের স্বল্পমেয়াদী এ কুরআন প্রশিক্ষণ প্রকৃতপক্ষে অনলাইনে ফলপ্রসূ হয় না।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী!
করোনা নামক মহামারি আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি গজব। আমরা বিশ্বাস করি সারাদেশে কুরআনের তা’লীম চালু থাকলে আল্লাহ পাক আমাদেরকে এ আযাব থেকে মুক্তি দেবেন। সেইসাথে দেশের উপর বর্ষিত হবে অবিরত রহমত ও বরকত ইনশাআল্লাহ।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী!
দেশের আইনকে শ্রদ্ধা করে, যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে কুরআন প্রশিক্ষণ পরিচালনায় আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। আপনি এহসান করে কওমি মাদ্রাসা খুলে দেওয়ায় কোথাও করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংবাদ শুনা যায়নি। আমরা মাদ্রাসার সব বিভাগ খুলে দিতে বলছি না। মেহেরবানি করে ১লা রমজান থেকে ২৬ রমজান পর্যন্ত শুধুমাত্র কুরআন শিক্ষা কার্যক্রমগুলো পরিচালনার সুযোগ দানের আরজ করছি। আল্লাহ আপনাকে কুরআনের নিছবতে দুনিয়া ও আখেরাতে কল্যাণ দান করুন।

ইতি
আপনার একজন সাধারণ নাগরিক
মুহাম্মদ ইমদাদুল হক
সাধারণ সম্পাদক
আঞ্জুমানে তা’লীমুল কুরআন বাংলাদেশ
গোটাটিকর (ষাটঘর) কদমতলী, সিলেট।