ম্যানহাটনের বাংগালী কবির কাছে একটা কিছু লিখছি

খালেদ সানোয়ার ||

কবি আশরাফ হাসান জানতে চেয়েছে মেসেঞ্জার মারফত তার নির্বাচিত কাব্যগ্রন্থ নিয়ে কোন রিভিউ লিখেছি কিনা। কবিতার বইয়ের রিভিউয়ের উপর সব কবিদের দূর্বলতা আমি দেখেছি। সব কবি বলতে আমাদের সমসাময়িক কবি । কিছু আগের কবি কিছু অনুজ কবি। সেহরী খেয়ে ঘুমিয়ে ছিলাম। ঘুম ভাঙতেই দেখি সাড়ে আটটা বাজে। আশরাফ হাসানের মেইল কবিতার মুখ কবিতা নিয়ে তার আজন্ম আগ্রহ আমাকে এখনো ভাবায়। সেই ১৯৯৭ সালে কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদে আশরাফকে ফেলে এলাম তার কবিতা ও কবি বন্ধুদেরসহ। সেটা ফিরে দেখা হলো না । পুণরায় পাঠ করাও হলোনা । আবার তার তাড়া একটা কিছু লিখুন।

কি লিখবো আশরাফ এই পেন্ডামিক প্রিয়ডে। ২০২১ এ তোমার বই বের হয়েছে। বইমেলা বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গনে । সেটা আমার দেখার সৌভাগ্য হয়নি। তোমার নির্বাচিত কবিতার কয়েকটি কবিতা পিডিএফ ফরমেট ও মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে পড়া হলো। ডিজিটাল আর ভার্চুয়ালি তোমাকে পড়া হলো। তোমার কবিতা পড়িনি আমি সেটা ঠিক না। সিলেট সাহিত্যাঙ্গনে তোমার কবিতার আমি পাঠক ছিলাম। তোমার কবিতায় ইসলামী ভাবধারার কবিতা রয়েছে। কবিতা নির্মাণে তুমি অনুকরণবাদী কিনা সেটা অনেক বড় প্রশ্ন। কারণ তোমার মতো কবিদের আধুনিক নগ্ন সংস্কৃতিতে দেউলিয়াপনা দার্শণিক মননে সেভাবে মুল্যায়ণ করা হয় না। এটা আমাদের কবিদের আমাদের সময়ের সব থেকে বড় যন্ত্রণা । মুসলিম প্যাটার্নের কবিদের আরো বড় দৈন্যতা । তুমিতো ছিলে নরোম স্বভাবের কবি । তোমাকে রুক্ষ পাইনি। কিন্তু তোমার কবিতায় কতটুকু রুক্ষতা আছে আজো আমার জানা হলো না । আর আরেকটা বিষয় হলো তোমার কবিতা অভিজাত কিনা সেটা বলার এখনো সময় আসেনি । আমার থেকে তোমার আরো কোন অনুজ পাঠক একদিন মূল্যায়ণ করে হয়তো অনেক কিছু লিখবে । তোমার সব থেকে বড় সৌভাগ্য তুমি ষাটের দশকের কবিদের পেয়েছো সংস্পর্শ পেয়েছো। কিন্তু জানি না ষাটের দশক দ্বারা তুমি প্রভাবিত কিনা । সত্তোর দশকের কবিরাতো তোমার ওস্তাদ । আর আশির দশকের কবিরা তোমার অনুপ্রেরণাকারী। নব্বই দশকটাতো তোমার দশক । তোমার কবি হয়ে ওঠার সময় । তোমার সৃজনশীল মন মনন আমি দেখেছি । শাহজালালের রসায়ণবিদ কবিরা তোমার মোলাকাতে ব্যস্ত । তোমার আবাসনের পাতাগুলো হয়তো ঝরে পড়েছিলো স্নিগ্ধতায় । কবিতায় মূর্ছনায় । আম্বরখানার রোদেরা সেটা সেটা জানে। কাটাযুক্ত লাল কবিতার ফুলগুলো তোমাকে কেনো কবি করেছিলো হয়তো সেটা অনেকেই জানেনা সেটা একান্তই তুমি জানো।

তোমার কবিতার বয়ানে টুক করে একটা বিদেশী শব্দ পুথে দাও সেটাই তোমার আজন্ম দূর্বলতা আর ভালোবাসার প্রতিশ্রুতিতে তুমি যে দায়বদ্ধো এক কবি সেটা আমার অনুমান। আজ অনেকদিন পর তোমাকে লিখছি । যখন তুমি সামনে পঞ্চাশ পেরোবে । তোমার কবিরা শুভাধ্যানুরায়িরা তোমাকে নিয়ে কত বাঙ্গময় আলোচনা করবে। তুমিও হয়তো মজা পাবে পুলকিত হবে নতুন সৃষ্টির আনন্দে।

তুমি যেখানে থাকো সেখানে কোন নদী আছে পাখি আছে ফুল আছে । আর আজন্ম কবিরা যে নারীকে নিয়ে কল্পনায় বোধ হয়ে থাকে গেন সব নারীরাও আছে । আছে নতুন শিশুদের কলকাকলিতে ভরা ম্যানহাটন । সেটা নাকি বাংগালীদের হাট। তোমার প্রতিটি সকাল কাটুক তিতকুটে কফি আর ম্যাহাটনের ভাজাপোড়া সন্ধের আবহে।

আশরাফ তুমি রিভিউ লেখার জন্য বলেছো জানি না এঁটা রিভিউ হয়েছে কিনা । তোমার পছন্দ হয়েছে কিনা । তোমার বর্তমান খাহেশাতটা কি । কবি শেখ সাদীর মতো তোমার কোন নফসের চৈতালি সূর আছে কি না সেটা আমি জানিনা । নফসের দাশ হয়ে থাকা কবিদের তুমি আমার থেকে কম চিনোনা । চুলতো কম পাকেনি । আরো পাকবে । আমেরিকান বাংলা বিধৌত কবিদের পাল্লায় পড়েছো । তোমার রূপ রস গন্ধ পাল্টে যাবে নিশ্চয়। কিন্তু তোমার কবিতার পান্ডুলিপি পড়ে মনে হলো তুমি পাল্টাওনি । পাল্টেনি তোমার প্রতিভা শৈলীর কারুকাজ।

তোমার ছন্দবদ্ধ বুননের মনন আরো দূরে নিয়ে যাবে আমাদের ভিশন মিশন আর বোধের রসধারাকে।তোমাকে দেখে কেনো জানি মাইকেল মুধুসুদনের কবি ও জীবন নিয়ে একপ্রস্থ ভাবলুম। ভাবতে থাকবো। কারণ আমরা এখন যেখানে থাকি সেখানে ভাবারই একটু স্বাধীনতা রয়েছে । কিন্তু বাহিরে চৈতালি ঝড় শেষ হয়ে নতুন পাতা গজানোর শব্দ শুনতে পারছি । হয়তো অনেকগুলো ঝড়ের সাক্ষী হবো। ঝড়ে আম পরে গেন আমের স্পর্শ পাবো। কবি আশরাফ হাসান তুমি সাতকড়া আদাজামিরের টেংগা খাও কিনা । অসমীয় সিলেটি কালচারের কবি।

তোমার ব্যবহারিক জীবন সম্বন্ধে আমার আজো জানা হলো না । হয়তো তুমি কবি আজন্ম কবি আম্বরখানা ইলেক্ট্রিসাপ্লাই কলবাখানী আর চাশনী পীরের মাজার তোমাকে চিনে। আমার চেনা হলোনা তোমার কবিতা। হয়তো সামনে আরো দিন আসবে যখন আমরা তোমার চিন্তা কবিতা মন মনন নিয়ে আরো অনেক কথা বলবো। যেখানেই থাকো কবি ভালো থেকো কবি। এখনই তোমার কবিতার মুল যৌবন আসছে। আমার সম্যক উপলব্দি তাই বলে।