রেল দুর্ঘটনা; দায়ভার কার?

খসরুল আলম ||

দুই হাজার দশ সালের অক্টোবর মাসের প্রথমদিকে জীবনে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম যাবার সুযোগ পেলাম। উপলক্ষ্য ছিলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা। ট্রেন ভ্রমণের আফসোস পূর্ণ হয় সেই জার্নিতে। মিলন নামের একটি ছেলের সাথে গল্প করতে করতে পাক্কা বারো ঘন্টার ভ্রমণের সমাপ্তি ঘটে। রেলস্টেশন থেকে রাত ১২ টার দিকে আমাকে রিসিভ করেন শ্রদ্ধাভাজন তোফায়েল ভাই। চার পাঁচদিন তোফায়েল ভাইদের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে ছিলাম। এরই মধ্যে একদিন আমি একাকী রুমে বসে খুব সম্ভবত সাধারণ জ্ঞান অধ্যয়ন করছি। তখন মহিলা কণ্ঠের চিৎকার শুনে দ্রুত বারান্দায় গেলাম! একজন মুরব্বি বয়সের ট্রেন কেটে চলে গেছে। খুব সম্ভবত রেললাইনের পাশে গরু চরাচ্ছিলেন তিনি।

ট্রেন আসার বিষয়টি টের পান নি। আহারে জীবন! এই মর্মান্তিক ঘটনাটি অনেকদিন আমার হৃদয়ে ক্ষত তৈরি করে রেখেছিলো! ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে ঢাকায় চলে আসি। উত্তরা আজমপুর রেলগেইটের পাশেই আমার কর্মস্থল। রেললাইন ঘেঁষা এলাকায় যেহেতু বসবাস রেললাইনের উপর দিয়ে প্রায়ই চলাচল করতে হয়৷  এখানে এসে রেল দুর্ঘটনার অগণিত হৃদয়বিদারক ঘটনা শোনার সুযোগ হয়৷ কিছু কিছু দুর্ঘটনা দেখার ও সুযোগ হয়। রমজানের আগে বাসায় ফিরতেছি রাত নয়টার দিকে। আজমপুর রেলগেইট সংলগ্ন রেললাইনে কিছু একটা পড়ে আছে লক্ষ্য করলাম। ফোনের টর্চলাইট মেরে আঁতকে উঠলাম! একজন মানুষের কর্তিত পা লাইনে পড়ে আছে। ভয়ে দ্রুত প্রস্থান করলাম। আমাদের দেশে সবকিছুর মূল্য বাড়ছে হু হু করে, শুধুমাত্র মানুষের জীবনের মূল্য কমতেছে।

বাংলাদেশের রেললাইন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এটা কি রেল মন্ত্রণালয় জানে না? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জানেন না? যে লাইন দিয়ে ১০/১৫/২০ মিনিট অন্তর ট্রেন আসা যাওয়া করছে সেই লাইন অত্যন্ত জনবহুল এবং ব্যস্ততম রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ট্রেন যখন কাছে আসছে তখন মানুষজন তড়িঘড়ি করে এক লাইন থেকে অন্য লাইনে যাচ্ছে। নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটছে, মানুষ মারা যাচ্ছে অসাবধানতায় এবং অব্যবস্থাপনায়। এর দায়ভার কি পুরোটাই নিহত ব্যক্তির নাকি সরকারের ও আছে?

লেখক : সাবেক শিক্ষার্থী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।